বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন ও তেলের দাম: কৃষকদের বার্তা সরকারের কাছে ।
শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশিত : নিউজ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক :
বাংলাদেশের কৃষি খাত দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ডিজেল ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে সেচ, মেশিন চালনা ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এতে ছোট থেকে বড় চাষি পর্যন্ত অনেকেই উৎপাদনের পরিকল্পনায় চাপ অনুভব করছেন।
কৃষক নেতারা জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, “ফসলের উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা না হলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ব। সরকার যদি সঠিক সহায়তা দেয়, তা আমাদের জন্য খুব প্রয়োজন।”
তেলের সংকট নিয়ে সরাসরি কোনো অভাব না থাকলেও, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে। দেশের বিভিন্ন জ্বালানি আমদানিকারক কোম্পানি নতুন ট্যাংকারের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “পূর্ণসংকট না হলেও দাম ও সরবরাহ অস্থিরতার কারণে কৃষি খরচে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ সঠিক রাখার কথাও কৃষকরা উল্লেখ করেছেন। অনেক সময় সরকারি ভর্তুকি থাকা সত্ত্বেও ডিলার বা বিক্রেতাদের কারণে কৃষককে উচ্চ দামে সার কিনতে হয়। এছাড়া ঋণ সুবিধা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য, বৃদ্ধি করতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষক নেতারা।
কৃষকরা আরও আশা প্রকাশ করেছেন, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীলতা কমানো হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় থাকবে এবং দেশের কৃষি খাত স্থিতিশীল হবে।
সরকার ইতোমধ্যেই কৃষি খাতের জন্য বিভিন্ন সহায়তা ও ভর্তুকি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে কৃষকরা মনে করছেন, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ, সার ও অন্যান্য ইনপুটের সঠিক সরবরাহ এবং ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশের কৃষকরা দেশের কৃষি উৎপাদন ও নিজস্ব জীবিকা রক্ষার জন্য সরকার থেকে সহযোগিতা আশা করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থাকলেও সঠিক নীতি ও সহায়তা দিয়ে কৃষি খাতকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।