সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ১৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব, বাড়তে পারে রাজস্ব আয়
নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউজ প্রতিদিন বিডি|
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে ২০২৬
তরুণ সমাজকে ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত করা, অকাল মৃত্যু কমানো এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সিগারেটের নতুন মূল্য কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এতে সিগারেটের বাজারকে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন—এই চারটি স্তরে ভাগ করে নতুন মূল্য ও কর কাঠামো প্রস্তাব করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ আবগারি শুল্ক এবং প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর আরোপ করলে প্রতিটি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ টাকা।
উচ্চ মূল্যস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি প্যাকেটের প্রস্তাবিত মূল্য ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা। একই হারে শুল্ক ও কর যুক্ত হলে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।
অন্যদিকে মধ্যম ও নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে কর ও শুল্ক সংযুক্ত হলে প্রতিটি সিগারেটের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৭ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হতে পারেন। পাশাপাশি তিন লাখের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বিপুলসংখ্যক মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে দেশে তামাক ব্যবহারের হারও কমে আসবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, নতুন কর ও মূল্য কাঠামো বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারের তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী অর্থবছরে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে।