
ইরানের ভাণ্ডারে এখনো যা আছে, তাতেই আমেরিকার ঘুম হারাম
আন্তর্জাতিক | নিউজ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট : শুক্রবার : রাত ৯:২০ মিনিট
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক শক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার দিক থেকে ইরান আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক সক্ষমতার যে অংশ প্রকাশ্যে এসেছে, তার বাইরেও দেশটির কাছে এমন অনেক শক্তি ও প্রযুক্তি রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান গত দুই দশকে নিজস্ব সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তি, আঞ্চলিক মিত্র বাহিনী এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনার কারণে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের কাছে স্বল্প ও মধ্যপাল্লার বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। একই সঙ্গে দেশটি উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিও তৈরি করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সংঘাতে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইরানের সামরিক শক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাদের বিস্তৃত আঞ্চলিক প্রভাব। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি রয়েছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। এসব গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরান কৌশলগত প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম বলে মনে করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের আরেকটি বড় শক্তি হলো তাদের ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্র সংরক্ষণাগার। পাহাড়ের ভেতরে নির্মিত এসব স্থাপনা আকাশ হামলা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে ধারণা করা হয়। ফলে যেকোনো সংঘাতের সময় ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সামরিক শক্তি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা আপাতত খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
★নতুন কিছু আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ফলো করুন এবং ওয়েবসাইট ভিজিট করুন |
নিউজ প্রতিদিন বিডি.কম এর সাথেই থাকুন