
মদিনায় কোন হামলা হয়নি, সৌদির অভিযোগ ডাহা মিথ্যা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নিউজ প্রতিদিন বিডি.কম
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনে সক্রিয় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে এ ঘটনার পরপরই ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি জোটের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, মদিনা অঞ্চলের আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কারা ছুড়েছে, সেটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল কিংবা এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি জোটের দাবি প্রত্যাখ্যান ইয়াহিয়া সারির
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, তাদের বাহিনী ওই দিন সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করেনি। তিনি মদিনায় হামলার বিষয়ে সৌদি পক্ষের দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
তবে হুথিদের এই বক্তব্য এবং সৌদি জোটের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি—দুটিই সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য। ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎস ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ মদিনা অঞ্চল?
মদিনা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে যান। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো খবর আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ইয়েমেনের সংঘাত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি আন্দোলনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
ঘটনার সত্যতা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
১৫ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি জোট মদিনা অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং হুথি মুখপাত্র ওই দিন সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
নিউজ প্রতিদিন বিডি.কম-এর পর্যবেক্ষণ: ঘটনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের দিকে নজর রাখা জরুরি।
সূত্র: এএফপি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন।