
ইফতারের আগে জ্বালানি নিয়ে বিরোধ, সিলেটে পেট্রোল পাম্পকর্মীকে ছুরিকাঘাত: নগরজুড়ে আলোচনা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ নিউজ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক :
সিলেট নগরীতে ইফতারের আগে জ্বালানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধ থেকে সংঘটিত ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর একটি ব্যস্ত পেট্রোল পাম্পে। আকস্মিক এই হামলায় পাম্পের এক কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইফতারের ঠিক আগে পেট্রোল পাম্পটিতে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি ছিল। তখন এক মোটরসাইকেল আরোহী দ্রুত জ্বালানি নেওয়ার জন্য পাম্পে প্রবেশ করেন। সেখানে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা তাকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু এ সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কর্মীদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
এক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ওই ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে স্থান ত্যাগ করেন। উপস্থিত অনেকেই ভেবেছিলেন বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়েছে। কিন্তু কিছু সময় পর তিনি আবার পেট্রোল পাম্পে ফিরে আসেন। ফিরে এসে হঠাৎ করে ধারালো অস্ত্র বের করে সেখানে দায়িত্ব পালন করা এক কর্মচারীর ওপর হামলা চালান। এতে ওই কর্মচারী গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহত কর্মচারীকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই হামলাকারী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে। হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে তাদের কাজ করতে হয়। অনেক সময় তুচ্ছ বিষয় নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়, যা বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সহিংস ঘটনা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে রমজান মাসের মতো সংযমের সময়ে এ ধরনের ঘটনা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কেউ কেউ এটিকে সামাজিক অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
📰 দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও লাইফস্টাইলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আপডেট জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের নিউজ পোর্টাল। নতুন খবর পেতে আমাদের ওয়েবসাইট অনুসরণ ও সামাজিক মাধ্যমে ফলো করার জন্য পাঠকদের আহ্বান জানানো হচ্ছে।