
গণভোটের বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, ভিন্ন মত বিএনপি–জামায়াত জোটে
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ | ৬:৩০ PM
নিউজ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক:
গণভোটের বৈধতা ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও তাদের জোটের বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে ভিন্ন মত প্রকাশ পাচ্ছে।
জামায়াত জোটে থাকা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সংসদে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি যাই বলুক না কেন, গণভোট আইনগতভাবে বৈধ। জনগণের দেওয়া এই রায় বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা মনে করেন, গণভোট বৈধ কি অবৈধ—এই বিতর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
গণভোট আয়োজনের জন্য জারি করা অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। ওই অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাবে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদন না পায় তাহলে এর অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোট ও তার ফলাফলের কী হবে।
এ বিষয়ে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, গণভোট আয়োজনের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল এবং সেই অধ্যাদেশের মাধ্যমেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য এটি সংসদে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, বিএনপি জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং জনগণও নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু এখন যদি সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদারও বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই এই জনরায় উপেক্ষা করা হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিউজ প্রতিদিন বিডি.কম